বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদেশে শিক্ষায় ব্যয়ের রেকর্ড এক বছরে ৮২ হাজার কোটি টাকা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২৪, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

বিদেশে শিক্ষায় ব্যয়ের রেকর্ড এক বছরে ৮২ হাজার কোটি টাকা

বিগত দুই দশকে বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পরিবারগুলোর ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। কেবল ২০২৫ অর্থবছরেই বৈদেশিক শিক্ষায় খরচ হয়েছে রেকর্ড ৮২ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় এই ব্যয়ের হার ২২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।একটি প্রজন্ম দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ অর্থবছরে শিক্ষার পেছনে খরচ ছিল ২২ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। চার বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় ১৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮২ হাজার ৮৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। 

গত পাঁচ বছরে সম্মিলিতভাবে এই খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজারে সুযোগের অভাব ও শিক্ষার বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত প্রতিদান না পাওয়ায় এই বহির্গমন প্রবণতা তৈরি হয়েছে।ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নও বড় ভূমিকা রেখেছে।

ইউনেস্কোর তথ্যমতে, ২০০০ সালে বিদেশে শিক্ষার্থী যাওয়ার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৩৯ জন, যা ২০২৩ সালে ৭৬ হাজার ৩২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২৩ বছরে এই হার বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তীব্র হচ্ছে। ২০২১ সালে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয়ে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি গুনতে হচ্ছে।জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা।

আগে কেবল ধনী পরিবারের সন্তানদের গন্তব্য ছিল ইংরেজিভাষী দেশগুলো। এখন অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। জাপানের প্রতি আগ্রহও ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা পার্ট-টাইম কাজ করে টিউশন ফি মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিযোগিতায় এই ভিন্নমুখী গন্তব্য বেছে নেওয়া এখন সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছে।চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার তীব্রতা এই বহির্গমনের প্রধান কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চাকরির বাজারে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের হতাশ করছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, স্থানীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার চেয়ে বিদেশে পড়াশোনা ও কর্মসংস্থান অনেক বেশি সম্মানজনক ও কার্যকর। বিসিএস বা অন্যান্য সরকারি চাকরির অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার চেয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষাকে তারা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন।নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার অভাবও দেশ ছাড়ার বড় প্রেরণা।

স্নাতক শেষ করে নামমাত্র বেতনে চাকরি করার চেয়ে বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগকে অনেকেই যৌক্তিক মনে করছেন। সরকারি ভর্তুকিতে পড়া শিক্ষার্থীরা দক্ষ জনশক্তি হয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর ফলে দেশ বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করা গেলে এই মেধা পাচারের প্রবণতা ঠেকানো কঠিন হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, ইউনেস্কো, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ব্র্যাক।