অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে রাতেও উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের প্রধান ফটকের তালা খোলা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা।
সোমবার রাত আটটার দিকে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের সামনে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তাদের স্পষ্ট দাবি, বর্তমান উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, তারা কোনো প্রকার সংঘাত বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চান না। বর্তমান উপাচার্য চাইলে পদত্যাগ করে সম্পূর্ণ নিরাপদে ভবন ছেড়ে চলে যেতে পারেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া অথবা গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সরাসরি পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে আন্দোলনকারীরা জানান, নিজের পদ ধরে রাখতে মদুনাঘাট ও চান্দগাঁও বাস টার্মিনালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিশ্ববিদ্যালয় বাসে হামলা চালানো হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পেছনে বর্তমান উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে তারা অভিযোগ তোলেন। শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, হামলার পর শেখ শরীফুল আলম বহিরাগত ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন, যে কারণে শিক্ষার্থীরা তাকে আর বৈধ উপাচার্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না।
এর আগে সোমবার সকালে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
এই পদক্ষেপে ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে দপ্তর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় তাকে ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
সাবেক উপাচার্যকে পদে ফেরানোর একদফা দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন