এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ভারতীয় সংগীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার দুপুর নাগাদ মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও তাঁর পারিবারিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি হঠাৎ হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী।
শনিবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বা আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রোববার দুপুরে তিনি বিদায় নেন। তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। সোমবার মুম্বাইয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৯৩৩ সালে ভারতের এক বিখ্যাত সংগীতানুরাগী মঙ্গেশকর পরিবারে তাঁর জন্ম। সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছিল শৈশবেই। মাত্র ৯ বছর বয়সে পেশাদার শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করার পর ১৯৪৩ সালে তিনি চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান রেকর্ড করেন। ১৯৫০-এর দশকেই বলিউড তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের গায়কীর এক অনন্য ও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হন তিনি।
বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের বিশাল ছায়ার পাশে থেকেও আশা ভোঁসলে নিজের স্বতন্ত্র গায়কী ও ঢং দিয়ে কয়েক দশক ধরে কোটি কোটি শ্রোতাকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। শুরুতে চটুল বা পশ্চিমা ধাঁচের গানের জন্য পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে তিনি প্রমাণ করেন তাঁর বহুমুখী প্রতিভা। বিশেষ করে উমরাও জান চলচ্চিত্রের গজল গেয়ে তিনি সংগীতে নতুন এক উচ্চতা স্পর্শ করেন। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার এবং দুবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর গাওয়া ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘মেরা কুছ সামান’ গানগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
ব্যক্তিগত জীবনে অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই শিল্পীকে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে নিজের সচিব গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই দাম্পত্য স্থায়ী হয়নি। পরে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মন বা আরডি বর্মণের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৪ সালে আরডি বর্মণের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গেই ছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
আধুনিক সংগীত নিয়ে তাঁর নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। বছর তিনেক আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান সময়ের নতুন গানগুলো তিনি খুব একটা শোনেন না। তাঁর পছন্দ ছিল ধ্রুপদী সংগীত ও ভীমসেন যোশীর মতো গুণী শিল্পীদের পরিবেশনা। তবে পাকিস্তানি শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান ও ভারতের সুনিধি চৌহানের কণ্ঠ তাঁর বেশ পছন্দের ছিল। তাঁর চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংগীতের একটি মহীরুহ ও স্বর্ণালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন