বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

মায়ের সঙ্গে বৈশাখী মেলায় দোকান দিতেন ফারিণ

বিনোদন ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

মায়ের সঙ্গে বৈশাখী মেলায় দোকান দিতেন ফারিণ

বৈশাখী সাজে তাসনিয়া ফারিণ

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ছোট ও বড় উভয় পর্দায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তবে অভিনয় জগতের ঝলমলে জীবনের বাইরেও ফারিণের শৈশব ছিল সাধারণ আর দশটা বাঙালি শিশুর মতোই আনন্দময় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই প্রথম দিনে বর্ষবরণ উদযাপনে মেতেছেন এই অভিনেত্রী। 

নববর্ষ উপলক্ষে তিনি নিজের জন্য যেমন বিশেষ কেনাকাটা করেছেন, তেমনি তার মা-ও বাসায় তৈরি করেছেন হরেক পদের পিঠাপুলি।পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিজের শৈশব ও কৈশোরের সোনালি স্মৃতিগুলো রোমন্থন করেছেন তাসনিয়া ফারিণ। 

তিনি জানান, ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা তার খুব মনে পড়ে। তখন বর্তমানের মতো নাগরিক ব্যস্ততা থাকলেও পাড়ায় পাড়ায় মেলা বসত। সেই মেলার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ মজার। ফারিণ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি মাঝেমধ্যে মায়ের সঙ্গে গিয়ে মেলায় দোকান দিতেন। 

কখনো মুড়ি-বাতাসা আবার কখনো স্কুলের বৈশাখী অনুষ্ঠানে আচার বা পিঠা বিক্রি করতেন তিনি। ছোটবেলার সেই উদ্যম আর মেলায় দোকান দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে আজও আপ্লুত করে।ঢাকায় বর্ষবরণের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজন তাসনিয়া ফারিণের শৈশবে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তিনি জানান, তাদের বাসা থেকে রমনা বটমূল ছিল পায়ে হাঁটা পথ। নতুন পোশাকে সেজে পরিবারের বড়দের হাত ধরে খুব ভোরে সেখানে পৌঁছে যেতেন তারা। ছায়ানটের শিল্পীদের নাচ আর গানের মূর্ছনায় সবার সঙ্গে বুঁদ হয়ে গান শুনতেন। সেই সময়কার অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই উৎসবই তার কাছে প্রকৃত নববর্ষ।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাসনিয়া ফারিণ এখন নিজেই একজন তারকা। তাই চাইলেই আগের মতো সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়া তার জন্য আর সম্ভব হয় না। তবে উৎসবের আমেজ কমেনি এতটুকু। জনস্রোতে পা মেলাতে না পারলেও নিজের বসবাসের এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এবারের বৈশাখী সাজের জন্য তিনি পছন্দ করেছেন ঐতিহ্যবাহী লাল পাড় সাদা শাড়ি। তার মা বাসায় তৈরি করেছেন রকমারি পিঠা, যা তার উদযাপনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

এবারের নববর্ষ উদযাপন নিয়ে ফারিণ বিশেষভাবে আনন্দিত। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে পহেলা বৈশাখের সময় রমজান মাস থাকায় উৎসবের সেই চিরচেনা রূপটি ঠিকভাবে দেখা যায়নি। এবার রোজা শেষ হওয়ার পর পহেলা বৈশাখ আসায় উদযাপনটি বেশ জমকালোভাবেই হচ্ছে। অভিনয়ের ব্যস্ততা সামলে পরিবারের সঙ্গেই নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছেন এই সুদর্শনী অভিনেত্রী।