অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় নিজের নামে এক দাগে একশত বিঘার বেশি জমি রয়েছে দাবি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের আর্থিক সচ্ছলতার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এই দাবি করেন। তার এই খোলামেলা বক্তব্যের পর গাবতলী এলাকার তার জমি, পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থের জন্য চাঁদাবাজি করার কোনো প্রয়োজন তার নেই বলে দাবি করেন এই অভিনেতা।
সাক্ষাৎকারে ডিপজল চাঁদাবাজির অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের বিপুল স্থাবর সম্পত্তির যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাবতলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় তার এক দাগেই একশত বিঘার ওপর জমি রয়েছে, ফলে অপরের কাছে চাঁদা নেওয়ার কোনো আর্থিক যৌক্তিকতা তার ক্ষেত্রে খাটে না। তবে তার এই দাবিকৃত বিপুল জমির মালিকানা বা পরিমাণের পক্ষে কোনো স্বাধীন সরকারি নথি ও দলিল জনসমক্ষে পাওয়া যায়নি, যার কারণে এটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত মৌখিক দাবি হিসেবেই পরিগণিত হচ্ছে।
গাবতলী পশুর হাটের ইজারা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিগত ২০২৪ সালে বাংলা ১৪৩১ সনের গাবতলী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ওই বছর সরকারি দরপত্রে সর্বোচ্চ ১৭ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা দর দাখিল করে তিনি ইজারা লাভ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আদেশে তার ইজারা বহাল রাখা হয়।
পরের বছর ২০২৫ সালেও গাবতলী পশুর হাটের বাৎসরিক ইজারা নিয়ে ডিপজলের নাম বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে। একই বছর ওই হাটে এক নারীকে শারীরিকভাবে মারধর ও এসিড নিক্ষেপের মতো গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্তে ওই অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়। এছাড়া চলতি ২০২৬ সালের জুন মাসে গাবতলী এলাকায় ঢাকা জেলা পরিষদের সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে ডিপজলকে আর্থিক জরিমানা করার খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এসব অতীত আইনি ও প্রশাসনিক ঘটনার প্রেক্ষাপটেই চাঁদাবাজির সাম্প্রতিক অভিযোগ খণ্ডন করতে গিয়ে অভিনেতা ডিপজল নিজের পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণ সামনে আনেন। নিজের যথেষ্ট বৈষয়িক প্রাচুর্য থাকায় চাঁদাবাজির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করাই তার বক্তব্যের মূল নির্যাস হলেও গাবতলীতে তার জমির পরিমাণের সত্যতা স্বাধীন কোনো সরকারি সংস্থা দ্বারা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন