জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার গত এক বছরে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে মরণব্যাধি এইডসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নতুন আক্রান্তদের একটি বড় অংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশই অবিবাহিত, যা আগের বছরের ৩১.৫ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১০.৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণের এই উল্লম্ফন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিশেষ করে যশোরসহ বিভিন্ন জেলা শহরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে:
ইনজেক্টেবল ড্রাগ: ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার সময় একই সুচ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করা।
অসুরক্ষিত সম্পর্ক: কনডম ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক এবং একাধিক সঙ্গীর সাথে মেলামেশা।
সচেতনতার অভাব: সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে না জানা এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলামেলা আলোচনার অভাব।
সামাজিক পরিবর্তন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক বন্ধন শিথিল হওয়া।
ইউএনএইডস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান জানিয়েছেন যে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। অন্যদিকে, দেশের প্রখ্যাত ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম নিয়মিত চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত ওষুধ সেবনে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং অন্যের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিও ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারেন। তবে সামাজিক লজ্জার কারণে অনেকে পরীক্ষা করাতে অনীহা দেখান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত স্কুল পর্যায়ে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন