শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ

নিপাহ ভাইরাসের সতর্কতা

শীতের সকালে শখের বসে কাঁচা খেজুরের রস পান করে অজান্তেই মরণব্যাধি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের অনেক মানুষ। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও দেশের স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। 

রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে যে ২০০১ সালে মেহেরপুরে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন যার মধ্যে ২৪৯ জনই মারা গেছেন। 

উদ্বেগজনক তথ্য হলো গত দুই বছরে বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সবারই মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নওগাঁর এক নারীর মৃত্যু হয় যিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আগে কেবল শীতকালে এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা গেলেও এখন গরমকালেও আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

নিপাহ ভাইরাস মূলত ফলখেকো বাদুড়ের লালা কিংবা প্রস্রাবের মাধ্যমে খেজুরের রসে মিশে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এতে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর মাথাব্যথা কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয় যা পরে মারাত্মক খিঁচুনি ও স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণ হতে পারে। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্য মতে বাংলাদেশের পর উল্লেখযোগ্য আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া ভারত ও ফিলিপাইন। 

বর্তমানে দেশের ৩৫টি জেলায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে যার মধ্যে ফরিদপুর রাজবাড়ী নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কাঁচা খেজুরের রস এবং বাদুড়ে খাওয়া ফল যেমন পেয়ারা বড়ই বা কলা পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশির মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে বলে চিকিৎসকরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।