রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

লিঙ্গের আকার বাড়াতে ফিলার নিচ্ছেন পুরুষেরা, রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকি

স্বাস্থ্য ডেস্ক

আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

লিঙ্গের আকার বাড়াতে ফিলার নিচ্ছেন পুরুষেরা, রয়েছে ভয়াবহ ঝুঁকি

Ai - ছবি

লিঙ্গের আকার নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকে যুক্তরাজ্যের অনেক পুরুষ এখন ফিলার নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দেশটিতে এ ধরনের প্রসাধনমূলক চিকিৎসার চাহিদা বাড়ছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং ভুলভাবে করা হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।যুক্তরাজ্যে সম্প্রতি এ ধরনের চিকিৎসার চাহিদা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেসন নামের এক ব্যক্তি লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরিধি বাড়াতে চেয়েছিলেন। প্রায় এক বছর বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার পর তিনি অস্ত্রোপচারের বদলে সাময়িক ফিলার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের ফিলার নেওয়ার পর তাঁর লিঙ্গের পরিধি ১৬ শতাংশ বেড়েছে। জেসন জানান, এই সামান্য পরিবর্তনে তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং পুরুষদের চেহারা ও শরীর নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা বদলে যাওয়ায় অনেকেই এখন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

লিঙ্গের আকার বা গঠন পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার ও অস্ত্রোপচারবিহীন দুই ধরনের পদ্ধতিই প্রচলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের জেলজাতীয় ফিলার, যা সাধারণত ঠোঁটেও ব্যবহার করা হয়। গ্রেটার ম্যানচেস্টারে এক বছরের বেশি সময় ধরে লিঙ্গে ফিলার দিয়ে আসা চিকিৎসক জাভেদ হুসেইন জানান, তাঁর রোগীদের মধ্যে ২০ থেকে ৭২ বছর বয়সি পুরুষেরা রয়েছেন। এই পদ্ধতিতে তিন হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় পাঁচ লাখ ৮১ হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে এবং এর মাধ্যমে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য লিঙ্গের পরিধি ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তবে এই পদ্ধতির ভয়াবহ ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যথা, কালশিটে দাগ এবং ফিলার অসমভাবে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংক্রমণের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক হুসেইন জানান, অন্য একটি ক্লিনিক থেকে ভুল চিকিৎসা নেওয়ার পর এক রোগীর লিঙ্গ কালো হতে শুরু করেছিল এবং ত্বক মারা যাচ্ছিল। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ইউরোলজিক্যাল সার্জন অধ্যাপক বৈভব মোদগিলও জানিয়েছেন, লিঙ্গের আকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর ত্বকের নেক্রোসিস বা ত্বক খসে পড়ার মতো ভয়াবহ পরিণতি তিনি দেখেছেন।

অ্যালেক্স নামের আরেক ব্যক্তি লিঙ্গবর্ধক চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে গিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিগামেন্ট কাটা এবং চর্বিকোষ ইনজেকশনের পর তিনি তীব্র ব্যথায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। প্রায় এক মাস ঠিকমতো হাঁটতে না পারা অ্যালেক্স জানান, সমাজ ও পর্নোগ্রাফির প্রভাবেই তিনি এমন অবাস্তব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস তিন হাজার ৭৫০ জন পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করে করা ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, এসব প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা প্রোফাইল এখনো স্পষ্ট নয়। অধ্যাপক বৈভব মোদগিল এ ধরনের চিকিৎসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং একটি জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।