সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
প্রস্রাবের সময় সামান্য অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়াকে সাধারণ সংক্রমণ বা পানিশূন্যতা মনে করে অবহেলা করা প্রাণঘাতী ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। দৈনন্দিন নানা শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীর অনেক সময় মূত্রাশয়, মূত্রনালি কিংবা কিডনির ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের আগাম বার্তা দেয়। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরণের ক্যান্সারগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা অনেক সহজ হয়।
দেরিতে শনাক্ত হলে চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়। অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচটি বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই প্রস্রাবের সাথে মাত্র একবারও রক্ত দেখা যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।
এর পাশাপাশি রাতে বারবার প্রস্রাবের তীব্র বেগ অনুভূত হওয়া, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালাপোড়া থাকা, প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ দুর্বল হওয়া এবং প্রস্রাব ত্যাগের পরও ক্লিয়ার না হওয়ার অনুভূতি থাকলে সতর্ক হতে হবে। রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনিল থাকওয়ানি জানান যে অনেকে বয়সজনিত সমস্যা মনে করে এসব উপসর্গ লুকিয়ে রাখেন, যা পরে রোগ ছড়িয়ে পড়ার পথ তৈরি করে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার বা আধুনিক থেরাপিতে রোগী সুস্থ হতে পারেন। বিশেষ করে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, নিয়মিত ধূমপায়ী এবং কলকারখানায় ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করা শ্রমিকদের মূত্রাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে এই উপসর্গগুলো সামান্যতম দেখা দিলেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন