শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দৈনন্দিন যে সাতটি অভ্যাস

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দৈনন্দিন যে সাতটি অভ্যাস

Ai - ছবি

বয়স কম হলেও অনেকের শ্বাসকষ্ট বা অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়ার পেছনে কেবল নির্দিষ্ট রোগ বা সংক্রমণ নয়, বরং দৈনন্দিন কিছু ক্ষতিকর অভ্যাসও দায়ী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, মূলত সাতটি বদভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়, যার ফলে শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ ও অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসটি হলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান। সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান সরাসরি শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায়। নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের ছেড়ে দেওয়া ধোঁয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শে থাকা সমানভাবে ক্ষতিকর। এছাড়া রাস্তায় চলাচলের সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া ধুলোবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া বা কলকারখানার রাসায়নিক কণা নিয়মিত শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

ঘরের অভ্যন্তরীণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ভুল জীবনযাপন ফুসফুসের জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে রান্নার ধোঁয়া বা মশার কয়েলের ধোঁয়া জমে ফুসফুসের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। পাশাপাশি দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণে ফুসফুসের স্বাভাবিক বাতাস ধারণক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। সামান্য সর্দি-কাশিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বারবার অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরি হয় এবং পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শ্বাসনালির স্বাভাবিক মিউকাস প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়।

ফুসফুসের অবস্থা ও ধারণক্ষমতা যাচাই করতে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা বুকে চাপ অনুভূত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অটুট রাখতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।