সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও বাজারে কৃত্রিম উপাদানে পাকানো কলা কিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে বা বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে পাকানো খাবার গ্রহণের ফলে মানবদেহে মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু কলার খোসার বাহ্যিক রং দেখে কোনো ফলকে নিশ্চিতভাবে রাসায়নিকযুক্ত বলে চিহ্নিত করা যায় না। প্রাকৃতিক উপায়ে পাকানো কলার গায়ের রঙেও অনেক সময় অসমতা দেখা যেতে পারে। ফল সংরক্ষণ পদ্ধতি, দীর্ঘ পরিবহন প্রক্রিয়া এবং পরিবেশের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে খোসার স্বাভাবিক রঙে এমন তারতম্য ঘটে।
ফলে শুধুমাত্র রঙের একটি নির্দিষ্ট ধরন দেখেই কোনো কলা রাসায়নিক প্রয়োগে পাকানো হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিজ্ঞানসম্মত নয়। সাধারণত সম্পূর্ণ পাকা অবস্থায় কলা গাছ থেকে কেটে সরাসরি বাজারে সরবরাহ করা হয় না। পরিবহন ও সংরক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করতে কাঁচা কলা সংগ্রহ করে পরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃত্রিমভাবে পাকানোর ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে অনুমোদিত বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ মাধ্যম হলো ইথাইলিন গ্যাসের ব্যবহার।
যেকোনো ফল প্রাকৃতিকভাবে নিজের ভেতর থেকেই ইথাইলিন উৎপন্ন করে এবং এই প্রাকৃতিক হরমোনটিই ফল পাকানোর মূল ভূমিকা পালন করে। বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় ইথাইলিন প্রয়োগ করলে মূলত ফলের ভেতরে থাকা সেই প্রাকৃতিক পরিপক্বতার ধারাটি দ্রুত সম্পন্ন হয়। বিজ্ঞানসম্মত ও অনুমোদিত এই পদ্ধতিতে ফল পাকানো হলে তা মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে যখন অনুমোদিত উপাদানের পরিবর্তে নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তখনই জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হয়।
কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর ক্ষেত্রে অতীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হতো বিপজ্জনক ক্যালসিয়াম কার্বাইড। এই উপাদানটি শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা ও বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে এটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনগত কড়াকড়ির কারণে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বাজার থেকে ফল কেনার সময় ক্রেতাদের কলার স্বাভাবিক সুবাস, খোসার বাহ্যিক গঠন ও ফলের দৃঢ়তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা থেকে একটি মিষ্টি ও সতেজ সুবাস পাওয়া যায়, যা কৃত্রিম উপাদানে পাকানো ফলে প্রায় অনুপস্থিত থাকে। রাসায়নিক প্রয়োগে পাকানো কলার পুরো খোসা উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের দেখালেও বাইরের অংশ অস্বাভাবিক শক্ত অনুভূত হতে পারে। তাই কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত চকচকে ও অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের কলা কেনা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ফলের গায়ে কোনো ধরনের কটু রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া গেলে তা কেনা যাবে না। পরিচিত ও বিশ্বস্ত ফল বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনার পাশাপাশি বাসায় আনার পর যদি দেখা যায় ফলটি ভেতর থেকে পচে অস্বাভাবিক নরম হয়ে গেছে, তবে তা খাওয়া সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। সর্বোপরি যেকোনো ফল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন