অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
মানবদেহের বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করে শরীরকে সুস্থ রাখতে কিডনি সার্বক্ষণিক কাজ করে চলেছে। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও প্রাথমিক ধাপে বাইরে থেকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে আপাতদৃষ্টিতে একজন মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলেও নীরবে কিডনির ভেতরে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ে জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির রোগ শনাক্ত করা বেশ কঠিন।
কারণ আক্রান্তদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনো শারীরিক উপসর্গ প্রকাশ পায় না। তবে সাধারণ কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান হওয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার অবনতি শনাক্ত করা সম্ভব। কিডনির সমস্যা দেখা দিলে শরীরে কিছু প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চোখের চারপাশে বা পায়ের গোড়ালিতে অস্বাভাবিক ফোলাভাব তৈরি হওয়া কিডনি সমস্যার অন্যতম সংকেত। এ ছাড়া প্রস্রাবের পরিমাণ বা প্রস্রাব করার ঘনত্বে পরিবর্তন আসা, প্রস্রাবে ফেনা দেখা যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরে চুলকানি দেখা দেওয়া এবং আকস্মিকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াও এই জটিলতার লক্ষণ। চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ের মতে, প্রস্রাবের পরিমাণ, ধরন বা বৈশিষ্ট্যের কোনো পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিলে তা কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে কিডনির গভীর দ্বিমুখী সম্পর্ক রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ যেমন কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি কিডনির ছাঁকনক্ষমতা হ্রাস পেলেও রক্তচাপ বেড়ে যায়।
কিডনির সার্বিক সুস্থতা ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ে চিকিৎসকেরা প্রধানত তিনটি সহজ পরীক্ষার ওপর জোর দেন।
প্রথমটি হলো রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরিমাপ। ক্রিয়েটিনিন পেশির বিপাকীয় কাজের ফলে তৈরি একটি বর্জ্য পদার্থ, যা সুস্থ কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। রক্তে এর মাত্রা নিরূপণ করে এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট বা ইজিএফআর বের করা হয়, যা কিডনির ছাঁকনক্ষমতার স্পষ্ট ধারণা দেয়। তবে বয়স, পেশির ঘনত্ব ও শরীরে পানির পরিমাণের ওপর এই ফলের তারতম্য হতে পারে। দ্বিতীয় পরীক্ষাটি হলো প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও বা ইউএসিআর। অ্যালবুমিন শরীরের প্রয়োজনীয় একটি প্রোটিন, যা সাধারণত কিডনি ধরে রাখে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রস্রাবের সাথে এই প্রোটিন বেরিয়ে যায়, যা কিডনি বিকল হওয়ার অনেক আগেই শনাক্ত করা যায়। তৃতীয় পরিমাপটি হলো নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা, যা সামগ্রিক মূল্যায়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
যাদের কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা স্থূলতার সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত বিরতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই পরীক্ষাগুলো করানো অত্যন্ত জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন