জুন ২৭, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
ভূমিকম্প ঠিক কখন আঘাত হানবে তা এখনো শতভাগ নির্ভুলভাবে আগাম জানানো সম্ভব না হলেও আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মূল কম্পন অনুভূত হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যেতে পারে আপনার স্মার্টফোনে। এই অত্যন্ত অল্প সময়ই সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করে জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তাই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের বিশেষ ফিচারটি এখনই সক্রিয় করা জরুরি।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়াক অ্যালার্টস সিস্টেম’।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার সেন্সরের সংগৃহীত ডেটা বা তথ্য ব্যবহার করে এই স্বয়ংক্রিয় দুর্যোগ ব্যবস্থা পরিচালনা করে গুগল। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় একাধিক ফোন একই ধরনের প্রাথমিক কম্পন শনাক্ত করলে সেই তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে গুগল নিশ্চিত হয় সেটি ভূমিকম্প কি না।
নিশ্চিত হওয়ার পর সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সর্বস্তরের ব্যবহারকারীদের ফোনে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানো হয়, যার ফলে ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে থাকা মানুষ কয়েক সেকেন্ডের মূল্যবান সময় পান নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই ফিচারটি চালু করতে হলে প্রথমে ফোনের সেটিংস অপশনে যেতে হবে, এরপর সেখান থেকে সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপশনে প্রবেশ করে আর্থকোয়াক অ্যালার্টস ফিচারটি বন্ধ থাকলে তা অন বা সক্রিয় করে দিতে হবে।
গুগলের এই বিশেষ ভূমিকম্প সতর্কতা সুবিধা পেতে হলে ফোনে সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ ও লোকেশন সার্ভিস বা জিপিএস সিস্টেম চালু থাকতে হবে এবং সেই সাথে ডিভাইসে সর্বশেষ গুগল প্লে সার্ভিসেস ইনস্টল থাকা বাধ্যতামূলক। গুগল সাধারণত দুই ধরনের সতর্কবার্তা পাঠায়—কম মাত্রার কম্পনের ক্ষেত্রে স্ক্রিনে সাধারণ নোটিফিকেশন আসে এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পুরো স্ক্রিনজুড়ে উচ্চ শব্দে জরুরি সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে।
আইফোন ব্যবহারকারীরা এই সুবিধার বাইরে থাকলেও তারা স্থানীয় সরকারি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা বা বিশ্বস্ত তৃতীয় পক্ষের দুর্যোগ অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ভূমিকম্পের আগাম অ্যালার্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং জানালা বা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূমিকম্প সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে এই আধুনিক আগাম সতর্কতা প্রাণহানি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জরুরি মুহূর্তে এই কয়েক সেকেন্ডের সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে মূল্যবান সময়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন