জুলাই ৩০, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দশ বছরের মধ্যে প্রচলিত অর্থের প্রয়োজনীয়তা শেষ করে দেবে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, নতুন প্রযুক্তির কারণে পৃথিবীতে অভাবনীয় প্রাচুর্য আসবে।কিন্তু এই স্বপ্নকে এক ধরনের নতুন দাসত্ব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।মাস্কের দাবি, রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের যাবতীয় কাজের দায়িত্ব নেবে।
ফলে সাধারণ মানুষের আর কাজ করার বা অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন হবে না। বিশ্লেষক ইয়াহিয়া আমিন মনে করেন, এটি আসলে মুষ্টিমেয় কয়েকজন ধনকুবেরের হাতে পুরো মানবজাতিকে জিম্মি করার কৌশল। মানুষের স্বাস্থ্য, ব্যাংক ও ব্যক্তিগত যাবতীয় তথ্য তাদের সার্ভারে আটকা পড়বে এবং মানুষ পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যাবে।ইউরোপের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও ইলন মাস্ক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিবাসীদের কারণে ইউরোপে অচিরেই গৃহযুদ্ধ শুরু হবে।
অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ আড়াল করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো করমুক্ত অঞ্চলে সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইউরোপের মধ্যবিত্ত সমাজ আজ চরম চাপে রয়েছে। এই ক্ষোভ থেকে বাঁচতে অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
গত চার দশকে সম্পদ বৈষম্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে শীর্ষ ধনীদের সম্মিলিত সম্পদ ছিল মাত্র ৩০ বিলিয়ন ডলার, যা এখন প্রায় ১ দশমিক ৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দুই ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে।ইতিহাসের সঙ্গে এই পরিস্থিতির গভীর মিল রয়েছে।
প্রাচীনকালে ফেরাউন সমাজকে বিভক্ত করে সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণিকে শোষণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। বর্তমানে ঠিক একইভাবে সমাজের দুর্বলতম অংশ হিসেবে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে।প্রযুক্তির উন্নয়নকে স্বাগত জানালেও ধনকুবেরদের অন্ধ অনুকরণ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্ধভাবে তাদের আদর্শ মেনে নিলে মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তি বিলুপ্ত হতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন