সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
বাজারে নতুন স্মার্টফোন এলেই অনেকের মধ্যে পুরোনো ডিভাইস বদলে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর, আধুনিক ডিসপ্লে কিংবা নতুন অপারেটিং সিস্টেমের আকর্ষণে অনেকেই দ্রুত ফোন পরিবর্তন করতে চান। শুধু নতুন মডেল বাজারে আসার কারণেই একটি সচল ফোন বদলে ফেলা যৌক্তিক নয়। একটি স্মার্টফোন কতদিন পর্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব, তা নির্ভর করে এর যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার হালনাগাদ, ব্যাটারির আয়ু এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর।
যথাযথভাবে যত্ন নিলে একটি ভালো মানের স্মার্টফোন সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। সব ধরনের ফোনের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা একরকম হয় না। ফ্ল্যাগশিপ বা উচ্চমূল্যের ফোনে উন্নত যন্ত্রাংশের পাশাপাশি দীর্ঘদিন সফটওয়্যার সহায়তা পাওয়া যায়। ফলে এগুলো অনেক বছর সাবলীল থাকে। বাজেট কিংবা মাঝারি দামের ফোনের ক্ষেত্রে কয়েক বছর ব্যবহারের পর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকে। কোনো নির্দিষ্ট সময় পরপরই ফোন পরিবর্তন করতে হবে এমন কোনো কঠোর নিয়ম নেই। বর্তমান ডিভাইসের সার্বিক কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যাটারির কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া পুরোনো ফোনের একটি অন্যতম লক্ষণ। আগে এক চার্জে পুরো দিন চললেও কিছুদিন পর যদি দেখা যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের সময় হ্যান্ডসেট অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে। ব্যাটারির স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন আরেকটি ফোন কিনে ফেলতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ডিভাইসের মডেল ও বিক্রয়োত্তর সেবা প্রাপ্তির সুবিধা পর্যালোচনা করে কেবল ব্যাটারিটি পরিবর্তন করেও ফোনটি আরও কিছুদিন চালানো সম্ভব।
একটি হ্যান্ডসেট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার সহায়তা একটি অপরিহার্য বিষয়। নির্মাতা যখন নির্দিষ্ট কোনো মডেলে নিয়মিত নিরাপত্তা ও সিস্টেম হালনাগাদ দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন ডিভাইসে নতুন সুবিধা যুক্ত হয় না এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। নতুন কোনো হ্যান্ডসেট কেনার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কত বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা সুবিধা সরবরাহ করবে, তা জেনে নেওয়া দরকার। দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সহায়তাসম্পন্ন ফোন তুলনামূলক বেশি সময় নিরাপদে পরিচালনা করা যায়।
ফোনের গতি কমে যাওয়া বা একাধিক অ্যাপ্লিকেশন চালাতে গিয়ে বারবার হ্যাং করাও ডিভাইস পুরোনো হওয়ার লক্ষণ। অ্যাপ্লিকেশন চালু হতে দীর্ঘ সময় নেওয়া কিংবা মেমোরি প্রায় পূর্ণ হয়ে থাকলে ফোনের স্বাভাবিক গতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়। নতুন ফোন কেনার আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মেমোরি থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলা, সিস্টেম সফটওয়্যার হালনাগাদ করা কিংবা পুরো ডিভাইস ফ্যাক্টরি রিসেট করে পরীক্ষা করা যেতে পারে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও যদি গতি পুনরুদ্ধার না হয়, কেবল তখনই নতুন ডিভাইসের কথা বিবেচনা করা সংগত।
কখন ফোন পরিবর্তন করা সত্যিই জরুরি তা নির্ভর করে মেরামতের খরচের ওপর। ডিসপ্লে, ক্যামেরা, চার্জিং পোর্ট কিংবা মাদারবোর্ডে গুরুতর কারিগরি জটিলতা তৈরি হলে মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয় সতর্কতার সঙ্গে হিসাব করতে হবে। মেরামতের খরচ যদি ডিভাইসের বর্তমান বাজারমূল্য কিংবা একটি নতুন ফোন কেনার ব্যয়ের কাছাকাছি চলে যায়, তবে মেরামতের বদলে নতুন ফোন নেওয়াই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। সচল ও কার্যকর থাকা অবস্থায় কেবল নতুন মডেলের মোহে ফোন পরিবর্তন না করে ব্যাটারির অবস্থা, সফটওয়্যার সহায়তা, কার্যক্ষমতা ও মেরামতের খরচ বিবেচনা করলে অনাবশ্যক আর্থিক অপচয় রোধ করা সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন