রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না চিনবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি কি না চিনবেন যেভাবে

ছবি: Ai

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিওর আধিক্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাস্তব দৃশ্যের সঙ্গে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত এসব ভিডিওর পার্থক্য খালি চোখে বোঝা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

এর ফলে যাচাই-বাছাই না করেই অনেকে এসব ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যার দরুন সামাজিক মাধ্যমে অসত্য তথ্য ও নানা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

ভিডিওর কিছু নির্দিষ্ট খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তা বাস্তব দৃশ্য নাকি কৃত্রিম প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ভিডিওর সত্যতা নিরূপণে প্রথমেই সেটির পারিপার্শ্বিক পটভূমি, আলোর স্বাভাবিকতা এবং দৃশ্যধারার সামগ্রিক মানের দিকে তীক্ষ্ণ নজর দেওয়া জরুরি।

বেশির ভাগ কৃত্রিম ভিডিওতে মানুষের ত্বক অস্বাভাবিক রকমের মসৃণ ও কৃত্রিম উজ্জ্বল দেখায়।

পোশাকের রঙের বিন্যাস ও সুতার নকশায় প্রায়ই নানা অসংগতি ধরা পড়ে। এমনকি কখনো কখনো একটি বস্তুর শারীরিক অবয়ব অন্য একটি বস্তুর সাথে অবাস্তবভাবে মিশে যাওয়ার মতো ত্রুটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভিডিওর পারিপার্শ্বিক পটভূমি আরেকটি অন্যতম প্রধান নির্দেশক।

সাধারণত কম্পিউটারে তৈরি দৃশ্যে মূল চরিত্র বা সামনের ঘটনাকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও চকচকে দেখানো হলেও পেছনের পরিবেশ বেশ অস্পষ্ট, কৃত্রিমভাবে ঝাপসা কিংবা অত্যন্ত সংকুচিত পরিসরে রাখা হয়। বিশদ উন্মুক্ত প্রান্তর, সেখানে মানুষের স্বাভাবিক পদচারণা কিংবা প্রকৃতির প্রাকৃতিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদানের উপস্থিতি কৃত্রিম মডেলগুলোতে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। ফলে পেছনের দৃশ্যপটে প্রায়ই অবাস্তব শূন্যতা চোখে পড়ে।

সম্প্রতি টিকটকে ভাইরাল হওয়া ট্রাম্পোলিনে কয়েকটি বুনো খরগোশের লাফালাফির দৃশ্যটিকে বাস্তব মনে করে বহু মানুষ ব্যাপকভাবে শেয়ার করেছিলেন।

পরে কারিগরি বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে দৃশ্যটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি। ভিডিওটির অত্যন্ত সীমিত আলো, চারপাশের ঝাপসা পরিবেশ এবং খরগোশের শরীরের বাইরের অংশের অস্পষ্টতা দৃশ্যটির সাজানো চরিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছিল। একইভাবে নিউইয়র্কের সাবওয়েতে ধারণ করা একটি ভাইরাল ভিডিওতেও মানুষের মুখের অবয়ব কেঁপে ওঠা এবং পিক্সেল ভেঙে যাওয়ার মতো স্পষ্ট প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা গেছে।

ভারতের সামাজিক মাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন প্রযুক্তিনির্ভর বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যের ধারাবাহিকতা, মানুষের চোখের পলক ও মুখের অভিব্যক্তি, হাত-পায়ের নড়াচড়ার ছন্দ এবং বস্তুর স্বাভাবিক আকারের সামঞ্জস্য পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

তবে শুধু ক্যামেরার কম রেজল্যুশন, দুর্বল আলো কিংবা পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণেও কোনো কোনো বাস্তব ভিডিওতে ত্রুটি দেখা যেতে পারে। তাই দৃশ্যমান ত্রুটি দেখার পাশাপাশি মূল ভিডিওটি সর্বপ্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে তার অস্তিত্ব রয়েছে কি না এবং ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় কি না—তা যাচাই করা অপরিহার্য। নিশ্চিত না হয়ে কোনো কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ।