জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দেওয়া মন্তব্যকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ভারতের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং এটি দুটি সার্বভৌম দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ।
ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যকার সম্পর্ক একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম বিষয় যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা সম্মতির প্রয়োজন নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জেসওয়াল গত শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান আলোচনা নয়া দিল্লি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতের এই মন্তব্যের পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। সম্প্রতি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও উন্নত যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল।পাকিস্তানের আইএসপিআর এর তথ্য অনুযায়ী ওই বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পুরোনো বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেম আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে পরিবর্তন এসেছে এটি তারই একটি বড় প্রতিফলন। ভারতের সঙ্গে বর্তমান কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে পাকিস্তানের সাথে এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বর্তমানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্র বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ নিয়মিত বাড়ছে। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জে এফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে যার তালিকায় এবার বাংলাদেশও যুক্ত হতে পারে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মনে করেন প্রতিরক্ষা খাতে এই সাফল্য দেশটির অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের এই নতুন সমীকরণ নয়া দিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও পাকিস্তান একে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্বাভাবিক উত্তরণ হিসেবেই দেখছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন