মার্চ ৬, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক সুখোই এসই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা দুই পাইলটই প্রাণ হারিয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির বিমান বাহিনী (আইএএফ)। শুক্রবার নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালীন বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহত দুই সেনাসদস্য হলেন স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুর্গাকর।
বিমান বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী রাশিয়ার সুখোই কোম্পানির নকশা করা এই দুই আসনের বহুমুখী দীর্ঘপাল্লার যুদ্ধবিমানটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (এইচএএল) লাইসেন্সের আওতায় ভারতের নিজস্ব কারখানায় তৈরি করেছে।
বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে এই মডেলের ২৬০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে যা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছরে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটির বেশ কয়েকটি বড় ধরণের দুর্ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বারবার কেন এই ধরণের উন্নত প্রযুক্তির বিমান দুর্ঘটনায় পড়ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।এর আগেও একাধিকবার ভারতের আকাশে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের নাশিক জেলায় এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই একই মডেলের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল।
বারবার এই ধরণের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ঘাটতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমন উন্নত মানের যুদ্ধবিমান ও দক্ষ পাইলট হারানো দেশটির বিমান বাহিনীর জন্য বড় ধরণের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন