মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থের ওপর এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে মঙ্গলবার দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন তিনি।
সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেন এবং সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। মোদি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের সংসদ থেকে বিশ্ববাসীর কাছে শান্তি ও আলোচনার পক্ষে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বার্তা যাওয়া জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস ও সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করছেন, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন ভারত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে তিন লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভারতীয়কে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যার মধ্যে এক হাজার জন ইরান থেকে ফিরেছেন।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, শান্তি ফিরিয়ে আনতে ভারত নিয়মিতভাবে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। হরমুজ প্রণালির দুই পাশে অসংখ্য বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিক আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কঠোর নিন্দা জানান। ১০ দফা প্রস্তাবের শেষে তিনি বলেন যে, যুদ্ধের কারণে যেকোনো প্রাণহানি মানবতাবিরোধী অপরাধ।
তাই সব পক্ষকে পেশিবল ছেড়ে আলোচনার টেবিলে এসে সংকট সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজের জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টাও চলছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন