এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ শেষ হতে না হতেই ইসরায়েলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নতুন করে এই হামলা শুরু হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পেরেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের দিক থেকে আসা হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে তাদের ইউনিটগুলো।
তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানা যায়নি। এর আগে ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তেহরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যার দাবিও করেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অসাধারণ কাজ করেছে এবং ওয়াশিংটন তাদের কখনোই একা ছেড়ে দেবে না। ট্রাম্পের মতে, ইরান বিভিন্ন দেশে যে আক্রমণ চালাচ্ছে তা প্রমাণ করে তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ইরানকে সতর্ক করেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটকের জন্য মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান এই যুদ্ধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সফল বিনিয়োগ এবং মার্কিন নাগরিকরা এখন অনেক বেশি নিরাপদ।
তবে তার এই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, হামলার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠে এবং মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে শুরু করে। ট্রাম্পের শান্তি ও নিরাপত্তার দাবির ঠিক বিপরীত চিত্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দেখা যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন