শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

দুই-তিন সপ্তাহে ইরানকে চরম আঘাত হানার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

দুই-তিন সপ্তাহে ইরানকে চরম আঘাত হানার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের ভাষণ

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রায় ২০ মিনিটের এই দীর্ঘ বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করা হবে এবং খুব দ্রুতই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানা হবে। তবে যুদ্ধ শেষ করার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা তারিখ ঘোষণা করেননি তিনি।

ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন যে, চলমান এই সংঘাতের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মূল কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানকে পুনর্গঠনের বা টিকে থাকার সামান্য সুযোগ না দিতেই এখন পর্যন্ত তাদের তেলের ওপর কোনো আঘাত করা হয়নি, যা কি না সবচেয়ে সহজ লক্ষ্যবস্তু ছিল।চলমান এই যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষণ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে থাকলেও তার বক্তব্যের পর তা ১০৫ ডলারে উঠে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোকে সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, তাই মিত্র দেশগুলোর উচিত সেখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই রণকৌশলগত বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।রাজনৈতিকভাবেও ট্রাম্পের এই ভাষণ বেশ সমালোচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতা এবং সিনেট মাইনরিটি লিডার চুক শুমার এই বক্তব্যকে উদ্দেশ্যহীন এবং বিচ্ছিন্ন বলে আখ্যা দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ইরানের বিষয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলো দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় নীতিগত ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে। শুমারের মতে, ট্রাম্প মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করছেন এবং আমেরিকানদের ঘরোয়া সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ১২ হাজার ৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

ট্রাম্প বিজয় দাবি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। গত বুধবারও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ব্রিটিশ বাহিনী জর্ডান, বাহরাইন ও সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।

 এছাড়া রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান নাগরিক দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, লক্ষ্য অর্জন হোক বা না হোক, চলমান এই সামরিক সংঘাত মার্কিন জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধ জয়ের দাবি এবং মাঠের পরিস্থিতির মধ্যে এখনো বিস্তর ফারাক দৃশ্যমান।