শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ১০:২৭ এএম

ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া

বাড়ছে তেলের দাম

জাতির উদ্দেশে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ভাষণে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার এবং দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য বোমা হামলার হুমকির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। 

বিশ্বব্যাপী তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পর মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই-এর দামও ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। 

বর্তমানে ডব্লিউটিআই তেলের প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলারের বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের জেরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।বিশ্বজুড়ে এই সংকটের প্রভাব পড়লেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে বিষয়টিকে কিছুটা খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রণালিটির প্রয়োজনীয়তা আগের মতো নেই। 

এমনকি জলপথটিতে প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার না করেই তিনি এই যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে তাদের মিত্র দেশগুলোরই গ্রহণ করা উচিত।ইরানে ‘বিস্ময়কর বিজয়’ অর্জনের দাবি করে ট্রাম্প আরও জানান যে, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত কাজ শেষ করতে মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।

 তবে তার এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সূত্র:বিবিসি বাংলা