এপ্রিল ২, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই আরবসাগরের কৌশলগত জলসীমায় সাত দিনের শক্তিশালী এক যৌথ নৌ মহড়া সম্পন্ন করেছে চীন ও পাকিস্তান। বুধবার (১ এপ্রিল) উত্তর আরবসাগরে উভয় দেশের নৌবাহিনীর সমন্বিত টহলের মাধ্যমে এই মহড়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মূলত দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করাই ছিল এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।`সি গার্ডিয়ান-৪` নামক এই বিশেষ মহড়াটিতে করাচি বন্দরে পাঁচ দিনের বন্দর পর্ব এবং উত্তর আরবসাগরে দুই দিনের সমুদ্র পর্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সমুদ্র পর্বে বহুমাত্রিক হুমকির বিরুদ্ধে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিনের সাথে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং প্রথাগত নৌযুদ্ধের নানা জটিল কৌশল অনুশীলন করা হয়।
এছাড়া উভয় দেশের নৌবাহিনীর অভিযানগত সক্ষমতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সরাসরি গোলাবর্ষণ বা লাইভ-ফায়ার ড্রিলও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।আইএসপিআর জানায়, এই মহড়াটি আরবসাগরে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের অঙ্গীকারকে পুনরায় ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সমুদ্রপথে যে কোনো আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয় দেশের নৌবাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীন ও পাকিস্তানের এই যৌথ সামরিক মহড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই আয়োজন আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন