এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ৩৫তম দিনে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে তেহরান। গত শুক্রবার দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা এবং জলসীমায় মহড়া দেওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ওপর ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং তিনটি শক্তিশালী ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো এই দিনটিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য একটি `কালো দিন` হিসেবে অভিহিত করেছে।ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি শনিবার সকালে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সামনে নিয়ে আসে।
তাদের দেওয়া তথ্যমতে, সংস্থাটির অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্স খোমেইন ও জানজান অঞ্চলের আকাশে দুটি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর মাঝআকাশেই ধ্বংস করেছে।
এছাড়া ইসফাহানের স্পর্শকাতর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে উড়তে থাকা দুটি মার্কিন এমকিউ-৯ অ্যাটাক ড্রোন এবং বুশেহরের উপকূলীয় এলাকায় একটি ইসরায়েলি হারমেস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিরোধ অভিযানে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।বিবৃতির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ছিল ইরানের মধ্যাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি। আইআরজিসি জানিয়েছে, ওই বিমানের পাইলট বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে সম্ভবত ইজেক্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বর্তমানে ইরানি বাহিনী পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ও পাইলটের সন্ধানে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে ইরানের মূল সেনাবাহিনী আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় একটি ভারী মার্কিন এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সিস্টেমের রাডারে ধরা পড়ার সাথে সাথেই সেটিকে আঘাত করা হয় এবং বিমানটি পারস্য উপসাগরের পানিতে আছড়ে পড়ে।
উল্লেখ্য যে, বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষ্যে এই ভয়াবহ সংঘাত চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
খামেনির প্রয়াণের পর দেশটিতে দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোক এবং রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলেও তেহরান শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিমান ভূপাতিতের ঘটনা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন