বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসরাইলকে কোনো অস্ত্র দেবে না ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

ইসরাইলকে কোনো অস্ত্র দেবে না ফ্রান্স

অনড় অবস্থানে ফ্রান্স

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলকে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ইসরাইলি বাহিনীকে নতুন করে কোনো মারণাস্ত্র সরবরাহ করবে না। রোববার প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

প্যারিসের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি সরাসরি বলেন, "না, ফ্রান্স ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে না।" তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফ্রান্স কিছু ছোট উপাদান বা পার্টস বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ইসরাইলের ‍‍`আয়রন ডোম‍‍` ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্রজেক্টাইল এবং ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনের সাথে মিল রয়েছে এমন কিছু সরঞ্জামের কথা তিনি উল্লেখ করেন। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, প্যারিস কেবল রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম বাদে অন্য কোনো সমরাস্ত্র দিতে রাজি নয়।এর কয়েকদিন আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ আন্তর্জাতিক মহলে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা করে, তবে ফ্রান্স সেই লড়াইয়ে কোনোভাবেই অংশ নেবে না। মাখোঁর এই অবস্থান মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ফ্রান্সের স্বতন্ত্র কূটনৈতিক নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। 

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো বড় যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ফ্রান্স এই সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্রান্সের এই ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন ইসরাইলের পাশে সরাসরি দাঁড়িয়েছে, তখন প্যারিসের এই দূরত্ব বজায় রাখার ঘোষণা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। 

ফরাসি সরকারের এই সিদ্ধান্তে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান শক্তিশালী করতে ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।