এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে দিন দিন বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোদ জয়শঙ্কর।
সংঘাতপূর্ণ বর্তমান পরিস্থিতি এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।জয়শঙ্কর তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পক্ষ থেকে তিনি ফোন কলটি পেয়েছেন।
সেই আলাপে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তারা পারস্পরিক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে ফোনালাপের সুনির্দিষ্ট বা গোপনীয় কোনো বিষয় তিনি জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি। উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ সম্পন্ন হলো।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই আলোচনায় কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয় বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সার্বিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। চলমান সংকটের মধ্যেও ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ যে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে, এই ফোনালাপ তারই একটি বড় ইঙ্গিত। দুই দেশই চায় এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসুক এবং বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হোক।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে নতুন করে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে দ্রুত একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন এবং এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে চুক্তি হতে দেরি হলে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও জানান যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে একদিকে যেমন ভারত ও ইরানের মতো দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের পথ এখন যেমন জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে, তেমনি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে তা বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। জয়শঙ্কর ও আরাঘচির এই কথোপকথন আগামী দিনে ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ক্ষেত্রে নতুন কোনো পথ উন্মোচন করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন