বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। গত রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌ কমান্ড এই কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করে। 

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এই আন্তর্জাতিক নৌপথে বিদেশি প্রভাব বা আধিপত্যের যুগ এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। 

ইরান এখন একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে যেখানে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে শুধুমাত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। কোনো বিদেশি শক্তি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই পথে আর আগের মতো আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে না বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। 

তেহরানের এই অনড় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একের পর এক আলটিমেটাম দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন শর্তে রাজি না হয় তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ মতো চরম বার্তাও দিয়েছেন। 

এছাড়া নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ পালিত হবে বলে রহস্যময় ও আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা এমন ভয়াবহ সামরিক হুমকির পরও ইরান নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও তেল পরিবহনের এই প্রধান পথে তারা এখনো কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। 

এমনকি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর নতুন করে ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নেয় কি না, তা নিয়ে সারা বিশ্বে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।