বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:০১ এএম

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা

রাশিয়ার শোধনাগারে ড্রোন হামলা

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বাল্টিক সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ প্রিমোরস্ক বন্দর এবং মধ্যাঞ্চলের নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম ‘নরসি’ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে রোববার রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো এই হামলার খবর সামনে আনেন।রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানিয়েছেন, প্রিমোরস্ক বন্দরে একটি প্রধান পাইপলাইন হামলার শিকার হয়েছে। 

এই বন্দরটি রাশিয়ার তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি জানান, বন্দর এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে শার্পনেলের আঘাতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ তেল চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর গ্লেব নিকিতিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেট্রোল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘নরসি’ তেল শোধনাগারে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ড্রোন হামলায় স্থাপনাটির দুটি পৃথক ইউনিট সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার তীব্রতায় শোধনাগারের পাশের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, নরসি শোধনাগারে এই হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের, যা প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের সমান। রাশিয়ার তেল পরিবহন সংস্থা ‘ট্রান্সনেফট’ এই অবকাঠামোটি ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করে থাকে। এর আগে গত মার্চ মাসেও ফিনল্যান্ড সীমান্তবর্তী প্রিমোরস্ক এলাকার একটি তেল ডিপোতে একই ধরণের হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড তথা জ্বালানি ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করার নতুন রণকৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।