বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দিল ইরান

ইরানের সামরিক সতর্কবার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তার পরিণাম হবে আরও ভয়াবহ ও বিধ্বংসী। বিশেষ করে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে ইরান বড় পরিসরে প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

তেহরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। 

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন আগ্রাসন বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পুনরাবৃত্তি হলে ইরানের পাল্টা আক্রমণ হবে অনেক বেশি বিস্তৃত। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, তারা যে কোনো ধরণের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এমন সরাসরি আক্রমণের হুমকির পরই তেহরান তাদের সামরিক অবস্থান আরও কঠোর করার ঘোষণা দিল। মূলত কৌশলগত এই নৌপথকে কেন্দ্র করেই এখন দুই দেশ যুদ্ধের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে এক বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে করিয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন এখন পুরো বিশ্বের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত না হলে বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।