এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে আবারও বড় ধরণের নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ১০৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে লিবিয়ার উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি কাঠের নৌকা সাগরে ডুবে যাওয়ায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইতালির কোস্টগার্ড এবং উদ্ধারকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত এবং দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ইতালির কোস্টগার্ড এবং ইতালীয় এনজিও সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত ৩২ জন ব্যক্তির সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং অত্যন্ত খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে তাদের নৌযানটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। জার্মান উদ্ধারকারী সংস্থা সি-ওয়াচ এই দুর্ঘটনার পর একটি পর্যবেক্ষণ বিমান পাঠিয়েছিল, যেখান থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে ডুবন্ত নৌকার ওপর কিছু মানুষ আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এসএআর বা সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ জোন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌযানটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রীদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল বলে জানা গেছে। লিবিয়ার তেলের খনি বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে নৌকাটি সলিল সমাধির শিকার হয়। উদ্ধারকৃত জীবিত অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং উদ্ধার হওয়া দুই মরদেহ ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও এই রুটটি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। নিরাপদ ও বৈধ পথের অভাব এবং দালালদের প্ররোচনায় পড়ে প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষ এভাবে অনিশ্চিত পথে জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন। নিখোঁজ ৭০ জনের ভাগ্য নিয়ে এখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন