এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর যৌথ এক অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবরটি বিশ্বজুড়ে প্রচার করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোমবার ভোরে আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুরা এক পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে জেনারেল খাদেমিকে লক্ষ্যবস্তু করে। এই হামলাকে ইরান একটি ‘কাপুরুষোচিত’ আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
তবে এই অত্যন্ত গোপনীয় ও হাই-প্রোফাইল হামলাটি ঠিক কোথায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়েছে, সেই সম্পর্কে তেহরান বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।নিহত মেজর জেনারেল সৈয়দ মাজিদ খাদেমি ইরানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এর আগে তিনি আইআরজিসির ইন্টেলিজেন্স প্রোটেকশন অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দীর্ঘ সময় সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ২০২৫ সালের জুনে তিনি মোহাম্মদ কাজেমির স্থলাভিষিক্ত হয়ে আইআরজিসি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যু ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার ওপর বড় ধরণের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছিলেন, এই হামলা তারই কোনো অংশ কি না—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মাঝে জল্পনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি প্রধানের এই মৃত্যুর জবাবে ইরান বড় ধরণের কোনো পাল্টা হামলা চালাতে পারে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনার রেশ ধরে বৈশ্বিক তেলের বাজার ও জাহাজ চলাচলে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন