বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সুযোগ থাকলে ইরানের সব তেল দখল করতাম: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১১:২৪ এএম

সুযোগ থাকলে ইরানের সব তেল দখল করতাম: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তাঁর স্বভাবসুলভ সরাসরি ও বিতর্কিত মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সোমবার হোয়াইট হাউজে আয়োজিত বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সুযোগ থাকলে তিনি ইরানের তেল সম্পদ দখল করে নিতেন। 

তবে মার্কিন নাগরিকরা বিদেশের মাটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বা সেনা মোতায়েন পছন্দ করেন না বলেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ থেকে বিরত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ট্রাম্পের ভাষায়, মার্কিন জনগণ এখন চায় তাদের সেনারা বিদেশের মাটি থেকে নিজেদের দেশে ফিরে আসুক। তিনি জানান, বিষয়টি যদি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করত, তবে তিনি ইরানের জ্বালানি সম্পদ তথা তেলের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজের হাতে নিতেন। 

রিপাবলিকান এই নেতার মতে, তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের পথ তৈরি হতো, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় তহবিলে বড় অবদান রাখতে পারত। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের মাধ্যমে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের বর্তমান অবস্থার চেয়েও আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ দেখভাল করতে পারতেন।দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই তিক্ত সম্পর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। 

বিশেষ করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের প্রকাশ্য ইচ্ছা পোষণ করা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে অনেকে মনে করছেন। তবে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে মার্কিন জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর বিষয়টিকেই মূল কারণ হিসেবে সামনে এনেছেন। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন যে, তিনি তাঁর দেশের মানুষকে সবসময় খুশি দেখতে চান।মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই একটি সংবেদনশীল ইস্যু। 

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ঘরোয়া রাজনীতিতে নিজের প্রভাব মজবুত করতেই ট্রাম্প এমন উস্কানিমূলক কথা বলে থাকতে পারেন। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই ঘোষণা ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তোলার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।