শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

বাংলাদেশি নারীকে হত্যা, যা বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

বাংলাদেশি নারীকে হত্যা, যা বললেন ট্রাম্প

অভিবাসন ইস্যুতে সরব ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি প্রবাসী নারী নিলুফার ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন। গত ২ এপ্রিল ফ্লোরিডায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৪২ বছর বয়সী নিলুফার। 

অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও হামলার সেই সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প মার্কিন রাজনীতিতে অভিবাসন বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও শেয়ার করে বলেন যে এটি কারো জীবনে দেখা অন্যতম ভয়ংকর ঘটনা হতে পারে। তিনি অভিযুক্ত হত্যাকারীকে পশু হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে বাইডেন প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিবাসন নীতির কারণেই এমন অপরাধীরা যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে। 

বিশেষ করে হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য দেওয়া অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচি বা টিপিএস-কে তিনি একটি প্রতারণামূলক প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তা স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন।ট্রাম্পের অভিযোগ ডেমোক্র্যাটরা যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপরাধী ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। তিনি মনে করেন এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের পর উগ্রপন্থী বিচারকদের উচিত হবে না তাঁর কঠোর অভিবাসন নীতিতে বাধা প্রদান করা।

 উল্লেখ্য যে সাড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিকের সুরক্ষায় চালু থাকা টিপিএস কর্মসূচি বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে এক ফেডারেল বিচারকের আদেশে সেই উদ্যোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিন ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। 

সে বছরই তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি হলেও তিনি অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে থাকার বৈধতা পান। তবে ২০২৪ সালে তাঁর সেই সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নৃশংস এই ঘটনার পর স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত নিলুফার ইয়াসমিনের স্মরণে সেই গ্যাস স্টেশনের বাইরে একটি অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করেছেন তাঁর স্বজন ও প্রতিবেশীরা।