এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে আজ শনিবার একটি বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসছে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই ইরানের একটি প্রভাবশালী প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
এই ঐতিহাসিক বৈঠককে কেন্দ্র করে পুরো ইসলামাবাদ শহরজুড়ে এখন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও বিদেশি দূতাবাস সমৃদ্ধ ‘রেড জোন’ এলাকাকে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
ওই এলাকায় সব ধরনের সাধারণ যান চলাচল ও জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মীদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টার বরাদ্দ দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা কড়া পাহারা বসিয়েছে। মূলত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই কঠোর অবস্থান।ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার রাতেই ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে।
এই দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব এবং ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন অর্থনীতি ও সামরিক—উভয় দিক থেকে জোরালো দরকষাকষির পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই তেহরান এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। ইরানের লক্ষ্য তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এই সফরের ওপর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল ও প্রভাব অনেকাংশেই নির্ভর করছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে দুই পক্ষই এখন পর্যন্ত এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। এত প্রস্তুতির মাঝেও এই শান্তি আলোচনার সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এক ধরনের সংশয় কাজ করছে। এর প্রধান কারণ হলো লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক হামলা। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে এই শান্তি আলোচনা সফল হতে হলে লেবানন ফ্রন্টকেও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং সেখানেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।
বিপরীতে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে যে বর্তমান সমঝোতায় লেবানন সরাসরি অন্তর্ভুক্ত নয়। এই অস্পষ্টতা ও মতভেদের কারণে শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে যেখানে তিনি ১০ দফার একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
যদিও পরবর্তীতে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে শর্ত পূরণের দাবি জানাচ্ছে। এই বৈঠক যদি সফল না হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন