এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক বিশেষ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। শুক্রবার রাতে তেহরানের এই বিশেষ দলটি পাকিস্তানে অবতরণ করে। মূলত যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই বহুল আলোচিত বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী এই শক্তিশালী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
তাঁর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে আরও রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। তেহরান থেকে আসা এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপচারিতা শেষ করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে এই ঐতিহাসিক আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও একটি প্রভাবশালী প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। উভয় পক্ষের এই শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে এবারের আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে এই বৈঠকে মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতা নিরসনে পাকিস্তান সরকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে কারণ এখান থেকেই আসতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ফেরানোর নতুন কোনো রূপরেখা। এর আগে দুই দেশের মধ্যে এমন সরাসরি আলোচনার নজির খুব একটা দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ফলে দীর্ঘদিনের বরফ গলতে শুরু করবে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে এখন পর্যন্ত এক ধরনের গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের স্বার্থ ও প্রস্তাবনা নিয়ে ইসলামাবাদে মুখোমুখি হচ্ছেন। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এখন এই টেবিল বৈঠকের সাফল্যের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে। ঘটনাপ্রবাহের ওপর বিশ্বনেতারাও কড়া নজর রাখছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন