বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার জন্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার জন্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশকে ‍‍`সদিচ্ছা‍‍` নিয়ে এই বিশেষ সংলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

মহাসচিব মনে করেন এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ হতে পারে এবং উভয় পক্ষের উচিত এই সুযোগটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিবের এই অবস্থানের কথা জানান তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি বলেন গুতেরেস বিশ্বাস করেন যে উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত প্রতিরোধের জন্য একটি স্থায়ী ও ব্যাপক চুক্তির কোনো বিকল্প নেই। 

এই লক্ষ্য অর্জনে উভয় পক্ষকেই আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করতে হবে। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এই সংলাপ কেবল দুই দেশের জন্য নয় বরং পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে জাতিসংঘ মহাসচিব স্পষ্টভাবেই মনে করেন যে সনদসহ আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণরূপে মেনে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি করার কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। 

বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আলোচনার মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন আশার সঞ্চার করবে। জাতিসংঘ সব সময় এমন শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশে থাকবে এবং যেকোনো গঠনমূলক আলোচনাকে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন জাতিসংঘের এই প্রকাশ্য সমর্থন ইসলামাবাদে হতে যাওয়া বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে তখন জাতিসংঘের এই আহ্বান দুই দেশের ওপর একটি নৈতিক চাপ হিসেবে কাজ করবে। মহাসচিব গুতেরেসের এই বার্তা এমন এক সময়ে এল যখন দুই দেশের প্রতিনিধিরাই আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা এই সংলাপের মাধ্যমেই অবসান ঘটবে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের। মূলত আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই জাতিসংঘের এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য।