এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপনীত হয়েছে বিশ্ব রাজনীতি। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে আজ বিকেলে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ এখন পুরো বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এই প্রথম দুই পক্ষ সরাসরি আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হচ্ছে।ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাদাভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন।
এরপর বিকেলে সেরেনা হোটেলে শুরু হবে মূল সংলাপ। এই আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হোটেল এলাকাসহ পুরো ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে তাঁদের রানওয়েতে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মার্কিন দলে আরও রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সাথে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি আলী বাঘেরি কানি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সেই সংকট উত্তরণে ইরান একটি ১০ দফা পরিকল্পনা পেশ করেছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ এবং সামরিক সক্ষমতা হ্রাসের শর্ত সংবলিত ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা কেবল দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাবে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রাখবে। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত রুটের নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে রাজি হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ। ইসলামাবাদের এই টেবিল বৈঠক থেকে আজ বিশ্ববাসী মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির কোনো বার্তা পায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মূলত উভয় পক্ষের সদিচ্ছাই এই জটিল সংকট সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন