শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানি সম্পদ ফেরত নিয়ে যা বলছে হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

ইরানি সম্পদ ফেরত নিয়ে যা বলছে হোয়াইট হাউস

ইরানি সম্পদ নিয়ে ঘনীভূত রহস্য

কাতারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইসলামাবাদে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সমঝোতাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির সরকারের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। 

তবে এই দাবির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউস বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।ইরানের ওই সরকারি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের নিশ্চয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত। 

তেহরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই ওয়াশিংটন সম্পদ ফেরতের সবুজ সংকেত দিয়েছে। 

যদিও যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী পরিমাণ অর্থ ফেরত দেবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে ইরানের অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে যে কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল মুক্ত করার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে।বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হলেও হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সের কাছে এই সমঝোতার খবরটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এমনকি যে কাতারের মধ্যস্থতায় এই তহবিলের লেনদেন হওয়ার কথা, সেই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের ফলে ৬ বিলিয়ন ডলারের ভাগ্য নিয়ে পুনরায় এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও রহস্য তৈরি হয়েছে।ঐতিহাসিকভাবে এই ৬ বিলিয়ন ডলারের উৎস ছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকা পড়ে। 

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের আমলে কাতার ও দোহার মধ্যস্থতায় একটি বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওই অর্থ শুধুমাত্র খাদ্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যের মতো মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহারের অনুমতি ছিল।

তবে গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। হামাসকে ইরানের মদদপুষ্ট দাবি করে বাইডেন প্রশাসন ওই তহবিল পুনরায় জব্দ করার নির্দেশ দেয়। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে ইরান অদূর ভবিষ্যতে এই অর্থ হাতে পাবে না এবং প্রয়োজনে ওয়াশিংটন এই হিসাবটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার রাখে। ইরানের বর্তমান দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অস্বীকারের ফলে এটি আপাতত এক জটিল কূটনৈতিক বাদানুবাদের রূপ নিয়েছে।