শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে মধুর তেল যুক্তরাষ্ট্রের, দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে মধুর তেল যুক্তরাষ্ট্রের, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো মানের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এখন আমেরিকার হাতেই রয়েছে। তিনি মার্কিন জ্বালানি সম্পদকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে সেরা ও মধুর’ তেল বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক খালি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরের দিকে আসছে। এসব ট্যাংকার মূলত এখান থেকেই উন্নত মানের তেল ও গ্যাস লোড করে নিয়ে যাবে। 

তিনি আরও দাবি করেন যে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী ও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক বেশি মজুত রয়েছে। জ্বালানি সম্পদের এই উৎকর্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ববাজারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে সামনে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা চলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে তেলের বাজার বেশ কয়েকবার বড় ধাক্কা খেয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই চুক্তির ফলে তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি নেমে আসে এবং দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ৯২ ডলারের নিচে নেমে আসে।

এই সাময়িক সমঝোতার একটি বড় অংশ হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। এর আগে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সংঘাত শুরুর আগের অবস্থার তুলনায় তেলের দাম এখনো বেশ চড়া। 

উল্লেখ্য যে উত্তেজনার আগে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেল প্রায় ৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। ট্রাম্পের এই দাবি মূলত আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকার এই তেল সম্পদের প্রচার বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।