এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
বিশ্ব রাজনীতির দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক মোড় দেখা দিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেছেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে চলমান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা সামনাসামনি বসে কথা বলছেন।
এর আগে পর্যন্ত এই আলোচনা ছিল পরোক্ষ পর্যায়ের। দুই দেশের প্রতিনিধিরা পৃথক দুটি কক্ষে অবস্থান করতেন এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে বার্তা আদান-প্রদান করতেন। তবে শনিবার পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে।
মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানায় যে এখন দুই দেশের প্রতিনিধিরা একই টেবিলে বসে সরাসরি আলোচনায় লিপ্ত হয়েছেন। এই সরাসরি আলোচনার টেবিলে আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে একটি বিশাল ব্রেকথ্রু হিসেবে দেখছেন, যা একটি টেকসই সমঝোতার পথকে অনেক সহজ করে দিতে পারে।এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথকভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে দিনের শুরুতেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দুই দেশের প্রতিনিধিদের পৃথক বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এই দৌড়ঝাঁপ ছিল।ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সংলাপ বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষই এখন একই টেবিলে অবস্থান করায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অনেক জটিল ইস্যু দ্রুত সমাধানের মুখ দেখতে পারে। ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে তা বিশ্বশান্তির ইতিহাসে পাকিস্তানের জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন এই টেবিলের সিদ্ধান্তের দিকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন