এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালির দিকে একটি শক্তিশালী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অগ্রসর হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির দিকে আসছিল।
জাহাজটি সীমানার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর থেকেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর নজরদারির মুখে পড়ে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি আলোচক দলকেও তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং সাইটগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।
মেরিন ট্রাফিক ও ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ আজ দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদিও জাহাজটির গন্তব্য হিসেবে ‘সিঙ্গাপুর’ দেখানো হয়েছে, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর অবস্থানকে সাধারণ কোনো যাতায়াত হিসেবে দেখছে না তেহরান।একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদ দেশটির কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে।
তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবরটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে তাদের নজরদারি এড়িয়ে কোনো বিদেশি রণতরীর ওই এলাকা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের ফলে পুরো অঞ্চলে একটি ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।মার্কিন এই যুদ্ধজাহাজটি এমন এক সময়ে ওই স্পর্শকাতর এলাকায় অবস্থান করছে যখন ইরানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে না। উল্লেখ্য যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হলো এই প্রণালি। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উপস্থিতি বা সম্ভাব্য সংঘাত বিশ্ববাজারে তেলের দামসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই এই সামুদ্রিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন