এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ঐতিহাসিক ও নিবিড় আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, এই বিশেষ আলোচনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত বিষয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।
রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি এই বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতির মোড় পরিবর্তনকারী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইসমাইল বাঘেই উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের আন্তরিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা এখনো বিরতিহীনভাবে চলছে।
দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অসংখ্য বার্তা ও খসড়া নথি বিনিময় হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় যেসব বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং তেহরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এছাড়া ইরান ও এ অঞ্চলের বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘ সংঘাতের সম্পূর্ণ অবসান নিয়ে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি থেকে সরে এসে ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের দাবি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে আয়োজিত এই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে লেবানন সংকট এবং ইরানের জব্দকৃত বিশাল অংকের অর্থছাড় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার প্রথম দফা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় পক্ষ একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
এর আগে এই আলোচনাগুলো পরোক্ষভাবে চলছিল, যেখানে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা দুই আলাদা কক্ষে থাকা প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। তবে শনিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসেন। হোয়াইট হাউসও ইতিমধ্যে এই সরাসরি বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের প্রতিনিধি দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানানোর পরই তারা এই সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে রাজি হন। সংকট সমাধানের এই কূটনৈতিক পথকে বিশ্লেষকরা সংঘাত এড়িয়ে শান্তির পথে এক অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন