এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:৪১ এএম
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা জোরদার করতে রিয়াদে সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। গত শনিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাকিস্তান থেকে আসা এই সামরিক বহরটি বর্তমানে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
মূলত দুই দেশের মধ্যকার সামরিক বন্ধন এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের এই সেনা মোতায়েন দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আরও গতিশীল করবে।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বেশ কিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী বিমান এই বাহিনীতে যুক্ত রয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো যৌথ সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল বা অভিযানিক প্রস্তুতির স্তরকে আরও উন্নত করা।
তেহরান ও রিয়াদের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক মুভমেন্টকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং একজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হওয়ার পর এই যুদ্ধবিমানগুলো পাঠানো হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা সেখানে কোনো দেশকে আক্রমণ করতে যাননি।
বরং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো বাহ্যিক হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করার বিষয়ে রিয়াদকে জোরালো আশ্বাস দেওয়াই এই সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য।উল্লেখ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রিয়াদে একটি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল যে, যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।
সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে এখন সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষায় পাকিস্তান তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পাঠাল। দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে যে বহুমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান, এই পদক্ষেপ তাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল। বর্তমানে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর উপস্থিতি রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডন


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন