এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
ইরানকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং উপযুক্ত সময়ে মার্কিন বাহিনী ইরানকে ‘শেষ’ করে দেবে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনা কোনো ধরণের চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই মারমুখী অবস্থান সামনে এলো।
ফক্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর সামরিক সক্ষমতার দম্ভোক্তি করে বলেন, "আমি চাইলে মাত্র এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি। তাদের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যান্ট, এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো মার্কিন বাহিনী দখল করে নিতে পারে।
এটি হবে একটি বিশাল আঘাত যা তারা সামলাতে পারবে না।" ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরণের যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইসলামাবাদ আলোচনায় অনেক বিষয়ে সমঝোতা হলেও সবচেয়ে বড় সংকট পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো সমাধান আসেনি।
ট্রাম্প বলেন, "ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের একটি চুক্তি হতে পারত, কিন্তু ইরানের একগুঁয়েমির কারণে তা হচ্ছে না।" এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন অবিলম্বে টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা বা বের হওয়া সমস্ত জাহাজ আটকে দেওয়া হয়।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেই জাহাজগুলোকে তল্লাশি ও আটক করবে যেগুলো ইরানকে টোল প্রদান করেছে।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরান যে মাইন বসিয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার কাজ শুরু করতে আইডিএফ ও মার্কিন নৌবাহিনীকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা ইরানকে টোল দিয়ে পার হতে চাইবে, তারা আর নিরাপদে চলতে পারবে না। আর ইরান যদি মার্কিন বা অন্য কোনো মিত্র জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।"
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘অবরোধ’ নীতি বিশ্ব বাজারে তেলের দামকে আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই চরমপন্থা মূলত ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়ার একটি মহাপরিকল্পনা। খুব শীঘ্রই এই অবরোধ কার্যকর শুরু হবে বলে হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন