এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
মিয়ানমারের শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) আগামী বছরের মধ্যেই পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান কমান্ডার তোয়ান ম্রাত নাইং এই চূড়ান্ত লক্ষ্যের কথা জানান। সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে তোয়ান ম্রাত নাইং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে উল্লেখ করেন যে, তারা বর্তমানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনা করছেন। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যেই রাখাইন রাজ্যে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা তাদের সকল সামরিক সক্ষমতা নিয়োগ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে রাখাইনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। মূলত এর আগে উত্তর শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামে পরিচিত সমন্বিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই লড়াই শুরু হয়।
বর্তমানে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য হিসেবে অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের সাথে মিলে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা। গত দুই বছরে গোষ্ঠীটি রাখাইনের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ টাউনশিপ এবং চিন রাজ্যের প্যালেতওয়া এলাকা নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং শহরগুলো এখনও জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি কেবল সামরিক সাফল্যই নয়, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তুলেছে। এরই মধ্যে ওইসব অঞ্চলে আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো নাগরিক সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে জান্তা বাহিনীর ক্রমাগত বিমান ও নৌ হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে।
২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল মাত্র ২৬ জন সদস্য এবং একটি অস্ত্র নিয়ে মিয়ানমার-চীন সীমান্তের লাইজা শহরে যাত্রা শুরু করেছিল আরাকান আর্মি। বর্তমানে এটি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সহযোগী সংগঠনগুলো ছাড়াও প্রায় ৪০টির বেশি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাকান আর্মির এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধকে আরও জটিল ও তীব্র করে তুলতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন