বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানি বন্দর অবরোধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

ইরানি বন্দর অবরোধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরানে নৌ অবরোধের ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত করে ইরানের ওপর কঠোর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় জানান যে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকেই এই অবরোধ কার্যকর শুরু হয়েছে। 

এখন থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশকারী কিংবা সেখান থেকে ছেড়ে আসা যেকোনো জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনী আটকাবে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ওপর হামলাকারী যেকোনো ইরানিকে উড়িয়ে দেবে। 

এমনকি ইরানকে ট্রানজিট টোল প্রদানকারী যেকোনো বিদেশি জাহাজকেও আটক করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান ও পারস্য উপসাগরসহ ইরানের সব উপকূলীয় এলাকায় এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর হবে। তবে তারা প্রাথমিকভাবে দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী অন্য কোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে বিঘ্ন ঘটানো হবে না। 

যদিও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ইরানে বিমান হামলার মতো কঠোর বিকল্পগুলোও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের মুখে নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের পদক্ষেপকে অবাস্তব আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইরানের নৌপথের কাছে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

 একই সাথে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, এই অবরোধের ফলে শীঘ্রই আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দেবে। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি এই হুমকিকে ‘ডাকাতির শামিল’ বলে অভিহিত করেছে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।ট্রাম্পের এই একক সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। রাশিয়া মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ বিশ্ববাজারের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে। 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের আদেশের অনেক দিক এখনো অস্পষ্ট যা অস্থিরতা বাড়াতে পারে। স্পেন এই পদক্ষেপকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই নৌ অবরোধ অভিযানে যোগ দেবে না এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না।এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি জ্বালানি তেলের বাজারে। 

ট্রাম্পের ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় জার্মানি ইতোমধ্যেই তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানের চারপাশ ঘিরে তৈরি হওয়া এই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে যাচ্ছে।