এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নৌ অবরোধ এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে। সোমবার তেলের বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয় বলে এই অঞ্চলটিতে যেকোনো ছোট অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৪.১৬ ডলার বেড়ে ৯৯.৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা স্পর্শ করার উপক্রম।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের অন্যতম মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ২.৫১ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯.০৮ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও দিনের শুরুতে এই দাম বৃদ্ধির হার আরও বেশি ছিল, তবে দিনশেষে তা কিছুটা স্থির হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান ও অনিশ্চিত বক্তব্যের কারণেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের বন্দরে আঘাত এলে ওই অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
জ্বালানি তেলের এই আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা তাদের দৈনিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউরোপের দেশগুলোতেও তেলের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ছে, ফলে পরিস্থিতি সামলাতে সরকারগুলো জরুরি আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই সংকটের দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়তে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন