শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

মালয়েশিয়ার সমুদ্রে ৮ হাজার অননুমোদিত কোরআন বিসর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:২০ পিএম

মালয়েশিয়ার সমুদ্রে ৮ হাজার অননুমোদিত কোরআন বিসর্জন

সমুদ্রে বিসর্জন প্রক্রিয়া

পবিত্র কোরআনের বিশুদ্ধতা রক্ষায় এক কঠোর ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় বিধান মেনে ৮,৬৭২টি অননুমোদিত ও ত্রুটিপূর্ণ কোরআনের কপি গভীর সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মালয়েশিয়াজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই সময়ে প্রায় ১,৭৫৮টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে অন্তত ৬,৬২০টি অননুমোদিত কোরআনের কপি জব্দ করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। 

জব্দকৃত এসব কপির বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার রিঙ্গিত। আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৪৪টি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেন, পবিত্র কোরআনের প্রতিটি হরফ ও হরকত অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। সামান্য একটি ভুলও পবিত্র গ্রন্থটির মূল অর্থ পরিবর্তন করে দিতে পারে। এই কারণেই ত্রুটিপূর্ণ বা অননুমোদিত সংস্করণগুলো বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের এই নজরদারি কেবল ছাপানো বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া ডিজিটাল এবং অডিও সংস্করণের ক্ষেত্রেও সমভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ এই কপিগুলো মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং উপকূলের গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত করা হয়। প্রায় ২৭ লক্ষ রিঙ্গিত মূল্যের এই কপিগুলো নির্দিষ্ট ব্লকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করে সাগরে বিসর্জন দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা রক্ষায় এটি একটি স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সরকার ‘জম এক্সচেঞ্জ আল-কোরআন’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে থাকা পুরনো বা অননুমোদিত কোরআনের পরিবর্তে অনুমোদিত নতুন কপি সংগ্রহ করতে পারছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজারের বেশি কপি এই প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের মর্যাদা এবং বিশুদ্ধতা প্রচারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।