বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালিতে নতুন ফি আদায়ের ইঙ্গিত দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

হরমুজ প্রণালিতে নতুন ফি আদায়ের ইঙ্গিত দিল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মহড়া

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ফি আদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রণালিতে সাধারণ বা প্রচলিত কোনো ফি আরোপ করা হবে না। তবে প্রণালির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে নতুন একটি ফি নির্ধারণ করার বিষয়ে বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শনিবার আলজাজিরার একটি প্রতিবেদন থেকে তেহরানের এই নতুন অবস্থানের কথা জানা গেছে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ইরান সরকার প্রচলিত পদ্ধতিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো কর বসাবে না। 

তবে দেশটির পার্লামেন্টে বর্তমানে একটি বিশেষ খসড়া আইন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবিত আইনে মূলত প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর জন্য ফি নির্ধারণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইরানের এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে নতুন প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রেজায়ি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো জাহাজ যাতায়াত করতে চাইলে ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ব সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই শত্রুদেশের সামরিক জাহাজ, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মালিকানাধীন কোনো নৌযান এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। তবে যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাপেক্ষে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো শক্তি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা ইরান সহ্য করবে না।

এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-তে মাহমুদ নাবাভিয়ান নামের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের শর্তে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ইরানকে ধন্যবাদ জানান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিপূর্বে জানিয়েছিলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়টুকুতে এই আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন পথটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে নতুন ফি চালুর এই ইঙ্গিত ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।