এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ ও সংসদীয় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হলে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয় শাসক দল।
বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়েছে ২৩০টি ভোট। মোট ৫২৮ জন সংসদ সদস্য এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন। সংবিধান সংশোধনের জন্য যে বিশেষ জনসমর্থন প্রয়োজন ছিল, তা না পাওয়ায় মোদি সরকারের এই বড় রাজনৈতিক উদ্যোগটি আপাতত মুখ থুবড়ে পড়ল।
সংসদের এই বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর পেশ করা তিনটি বিলের মধ্যে প্রথমটি ছিল লোকসভা ও বিধানসভায় নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ।
তবে এই বিলটির সঙ্গেই সুকৌশলে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলটি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম বিলটি ভোটাভুটিতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেন্দ্র সরকার পরবর্তী দুটি বিল নিয়ে আর এগোয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কারণেই সরকার এই বড় ধাক্কা খেল।বিরোধী দলগুলোর জোট `ইন্ডিয়া` শুরু থেকেই এই সংবিধান সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
বিরোধীদের দাবি, তারা নীতিগতভাবে নারী সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও সরকার মূলত আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে চায়, যা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দেবে। এই আশঙ্কার কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো বিলটির বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অবশ্য সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন যে, আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতি কোনো অবিচার হবে না এবং এটি সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থের বিষয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮১৬টি করার প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন যে, এতে রিপ্রেজেন্টেশন বাড়বে। তবে বিরোধীরা সরকারের এই যুক্তি মেনে নিতে রাজি হয়নি। তৃণমূল সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন যে, তারা নারী সংরক্ষণ বিলের পক্ষে থাকলেও এর আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাসের রাজনৈতিক কৌশল কোনোভাবেই সমর্থন করবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৩ সালে `নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম` বিল পাস হওয়ার সময় বলা হয়েছিল যে, পরবর্তী আদমশুমারির পর আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। কিন্তু মোদি সরকার সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুততার সঙ্গে দুটি ভিন্ন বিষয়কে একই বিলে অন্তর্ভুক্ত করার যে চেষ্টা চালিয়েছে, তা সংসদীয় গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আপাতত ব্যর্থ হলো। ডিএমকে নেত্রী কণিমোঝি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ভোটের রাজনীতির অঙ্ক মেলাতেই তড়িঘড়ি করে এই বিল এনেছিল। শুক্রবারের এই ফলাফলের পর ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন